নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কৃতিসন্তান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুব আলম খানকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরও শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পারায় উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের দাবি, একটি মহলের অপতৎপরতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের কারণেই তার যোগদান প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মো. মাহবুব আলম খানকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ খবরে চান্দিনাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হয় বিতর্ক ও অভিযোগের পাল্টাপাল্টি আলোচনা।
ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে তাকে নিয়োগ না দেওয়ার দাবি জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. সেতাউর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগে মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলার বিষয়ও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন এসপি মাহবুব আলম খান। তিনি জানান, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। বরং ওই সময় তিনি ঢাকায় ৩০তম পুলিশ ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্সে অংশগ্রহণ করছিলেন।
তিনি বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমি সবসময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।”
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মামলার বিভিন্ন নথিপত্র ও তৎকালীন দায়িত্বকালীন তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অভিযোগের দিন ও সময়ে মাহবুব আলম খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করা হচ্ছে।
চান্দিনা উপজেলা বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান বলেন,
“মাহবুব আলম খান চান্দিনার গর্ব। তার পরিবার শিক্ষিত ও সম্মানিত। তাকে ফেনীর এসপি হিসেবে নিয়োগের খবর শুনে আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তা দুঃখজনক।”
ছয়ঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার মাকসুদুল হাসান বলেন,
“চান্দিনার একজন সন্তান জেলার পুলিশ সুপার হচ্ছেন—এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার মেনে নেওয়া কঠিন।”
মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন,
“মাহবুব আলম খান ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাকে দায়িত্ব না দেওয়া বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে।”
মাইজখার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাসান মাহমুদ হানিফ বলেন,
“মাহবুব আলম ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। চাকরিতে যোগদানের পর তিনি নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে জানতে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।